অ্যাপথাস আলসার-লক্ষণ/উপসর্গ,কারণ, পরামর্শ, চিকিৎসা

অ্যাপথাস আলসার-লক্ষণ/উপসর্গ,কারণ, পরামর্শ, চিকিৎসা

Written by Dr.Md.Redwanul Huq (Masum)
Tuesday, 28 October 2014 11:35

মুখে হরেক রকমের ঘা হয়। তন্মধ্যে যেগুলো খুব বেশী হয় অ্যাপথাস আলসার সেগুলোর একটি। দু:খের বিষয় হচ্ছে এ বিষয়ে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকার কারণে প্রায়ই আমাদের কষ্ট ভোগ করতে হয়। আর যেন কাউকে এ সমস্যায় কষ্ট পেতে না হয় সেই উদ্দেশ্যেই আমার এই আলোচনা।

অ্যাপথাস আলসার চেনার উপায় (লক্ষণ/উপসর্গ):

১. ঠোঁট, জিহ্বা, মাড়ি ও গালের ভেতরের দিকে হয়
২. সাধারণত পৃষ্ঠস্থ বা অগভীর হয়ে থাকে
৩. গোলাকার বা ডিম্বাকার হয়ে থাকে
৪. সাধারণত ১০ মি.মি. এর চেয়ে ছোট হয়, তবে কখনও কখনও এর চেয়ে বড়ও হতে পারে।
৫. এর রঙ হালকা হলুদ বা সাদা, কিন্তু এর চারপাশ ফোলা ও লাল হয়
৬. এতে কম-বেশী ব্যথা হয়, খাবার খেতে গেলে জ্বালাপোড়া হয়
৭. একসাথে ১-৬ টি হতে পারে
৮. ৫-৭ দিনের মধ্যে সেরে যায়
৯. ১-৪ মাস পরপর হতে পারে
১০. সাধারণত সেরে যাওয়ার পর কোন স্কার বা দাগ থাকে না।

অ্যাপথাস আলসারের কারণ:

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এর কারণ জানা যায় না, তবে কখনও কখনও এটি নিম্নলিখিত কারণসমূহের কোনটির জন্য হয়ে থাকে:
১.আয়রন, ভিটামিন বি১২ বা ফলিক এসিড এর অভাব
২.মহিলাদের মাসিকের আগে, মেনোপজের পরে
৩.মানসিক চাপ বা উদ্বিগ্নতা
৪.কোন কোন ওষুধ যেমন- এন্টি ইনফ্লেমেটরি ড্রাগস, নিকোটিন থেরাপি(ওরাল) ইত্যাদির পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া
৫.এলার্জি
৬.বংশগত
৭.বিভিন্ন রোগ, যেমন-সিলিয়াক ডিজিজ, ক্রন’স ডিজিজ, এইচ আই ভি /এইডস, কোলন ক্যান্সার ইত্যাদি।

অ্যাপথাস আলসারে পরামর্শ:

১.দৈনিক সকালে ঘুম থেকে উঠে ও রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ভালোভাবে দাঁত ব্রাশ করুন
২.মুখ ও জিহ্বা সর্বদা পরিষ্কার রাখুন
৩.প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করুন
৪.পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করুন
৫.অধিক মশলাযুক্ত খাবার খাবেন না
৬.মাঝে মাঝে লবণ-পানি দিয়ে গড়গড়াসহ কুলি করুন
৭.মানসিক চাপ মুক্ত থাকুন
৮.ধূমপানের অভ্যাস থাকলে ত্যাগ করুন
৯.পান যদি খেতেই হয় জর্দা ছাড়া খাবেন
১০.দৈনিক ৬-৮ ঘন্টা ঘুমাবেন।

অ্যাপথাস আলসারের চিকিৎসাঃ

১. টপিকাল কর্টিকোস্টেরয়েড যেমন-ট্রায়ামসিনোলন ০.১% ক্রিম বা অয়েন্টমেন্ট (Triamcinolone 0.1% Cream or Ointment) যা বাজারে কর্টেফিন (Cortefin), এরিস্টোকর্ট(Aristocort) ইত্যাদি নামে পাওয়া যায়, রাতে একবার বা প্রয়োজনে দিনে ২/৩ বার ক্ষতস্হানে ব্যবহার করুন
অথবা, ট্যাব.বিটামিথাসোন ০.৫ মি:গ্রা: (Tab.Betamethasone 0.5 mg) যা বাজারে বেটনিলান (Betnelan) নামে পাওয়া যায় – প্রতিবারে ১ টি ট্যাব. ১৫ মি.লি. বা ৩ চা চামচ পানিতে মিশিয়ে ৪ মিনিট ধরে সেই পানি দিয়ে কুলি করবেন দিনে ৪ বার

২. টপিকাল এন্টি ইনফ্লেমেটরি এজেন্ট যেমন-এমলেক্সানক্স ৫% ওরাল পেস্ট (Amlexanox 5% Oral paste) যা বাজারে এপসল (Apsol), এমলেক্স (Amlex) ইত্যাদি নামে পাওয়া যায়, দৈনিক ৩/৪ বার ক্ষতস্হানে ব্যবহার করুন

৩. লিডোকেইন ২% জেলি (Lidocaine 2% jelly) যা বাজারে জেসোকেইন (Jasocaine) নামে পাওয়া যায়, প্রতিদিন ৩/৪ বার ক্ষতস্হানে ব্যবহার করলে ব্যথা অনেকটাই কমে যাবে

৪. তীব্র ব্যথা হলে বা বারবার হতে থাকলে কর্টিকোস্টেরয়েড (Corticosteroid) ট্যাবলেট যেমন- প্রেডনিসোলন (Prednisolone) যা বাজারে কর্টান (Cortan), ডেলটাসন (Deltasone) ইত্যাদি নামে পাওয়া যায় অথবা ডেক্সামিথাসোন (Dexamethasone) যা বাজারে ওরাডেক্সোন ( Oradexon), ডেকাসোন ( Decason) ইত্যাদি নামে পাওয়া যায়, ডাক্তারের পরামর্শ অনুসারে খেতে হবে

৫. কোন নির্দিষ্ট রোগের কারণে হয়ে থাকলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ মতো সেই রোগের চিকিৎসা করতে হবে।

ফেইসবুকে আমাকে আপনার রোগ সম্পর্কে জানাতে লিখুন এখানেঃ

www.facebook.com/Medicalforallnet